Thursday, 5 July 2018

ক্রিয়ামান কর্ম , সঞ্চিত , কর্ম , প্রারব্ধ

মানুষের জীবনের ব্যাখা Image may contain: text

Astro U P Mishra Jamshedpur, Concept of Basic Karma in astrology




Astro U P Mishra Jamshedpur, Concept of Basic Karma in astrology 2





অ‌পি চেদ‌সি পা‌পেভ্যঃস‌র্বেভ্যঃ পাপকৃত্তমঃ।
সবং জ্ঞানপ্লবে‌নৈব বৃ‌জিনং সন্ত‌রিষ্য‌সি।।৩৬।।
য‌থৈধাং‌সি স‌মি‌দ্ধোহ‌গ্নির্ভস্মসাৎ কুরু‌তেহজুর্ন।
জ্ঞানা‌গ্নিঃ সর্বকর্মা‌ণি ভস্মসাৎ কুরু‌তে তথা।। ৩৭।।.সঞ্চিত কর্মঃ পূর্বের জন্মে মানুষ যে কর্ম করে তাকেই সঞ্চিত কর্ম বলে। অর্থাৎ বর্তমান জন্মে মানুষ সঞ্চিত কর্মেরই ফল ভোগ করে। সঞ্চিত কর্মের উপরই নির্ভর করে মানুষ কেমন স্তরে জন্মগ্রহন করবে। যদি ভাল কর্ম করে তবে ভাল স্তরে, আর যদি খারাপ কর্ম করে তবে খারাপ স্তরে জন্মগ্রহন করবে। পূর্বে জন্মে যে অনেক দান করবে সে ধনী পিতা-মাতার ঘরে জন্ম নিবে হবে, যে কৃপণতা করবে সে দরিদ্র‍্য পিতা-মাতার ঘরে জন্ম গ্রহন করবে। এখানে স্তর রয়েছে, কেউ রাজার ঘরে, কেউ জমিদারের ঘরে, কেউ উচ্চবিত্তের ঘরে, আবার কেউ একদম মিসকীন বা হত দরিদ্রের ঘরে, কেউ বা সামান্য দরিদ্র‍্যের ঘরে, কেউ ভিক্ষারীর ঘরে কেউ বা মধ্যবিত্তের ঘরে জন্মগ্রহন করে। কেউ বা আবার মানব কূল হারিয়ে পশু কূলে জন্মগ্রহন ককরে, যাকে বলা হয় ৮৪ এর ফের।তাই প্রতিটি মানুষই জন্ম থেকেই পাপী, যে ব্যাপারে বাইবেলের উক্তটি তুলে ধরেছিলাম উপরে।
২.প্রারব্ধ কর্মঃ সঞ্চিত কর্মকেই প্রাদব্ধ কর্ম বলা হয় বর্তমান জন্মে। অর্থাৎ আমরা যে কর্মেরফল ভোগ করে তাকেই প্রারব্ধ কর্ম বলে। অর্থাৎ সঞ্চিত কর্মই বর্তমান জন্মে প্রারব্ধ নাম ধারন করে। প্রারব্ধের ভোগ ভুগতে হবেই সে যত বড় মহামানব হোক। কর্ম কখনো পিছু ছাড়বে না। কুরআনের ভাষায় 'যা করবা তার বদলা পাইবা, এক সরিষার দানা পরিমান ছাড় দেওয়া হবে না"।














Astro U P Mishra Jamshedpur, Concept of Basic Karma in astrology

Astro U P Mishra Jamshedpur, Concept of Basic Karma in astrology 2

Astro U P Mishra Jamshedpur, Concept of Basic Karma in astrology 2

Wednesday, 14 February 2018

Sunday, 11 February 2018

লেনিন যেন চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বললেন , শতাব্দী শেষ হয়ে আসছে ।



১৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮
কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় ১০০ তম জন্ম দিবস
পদাতিকর কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর সাথে আমার বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলন ও ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলন এর ভবিষৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ আমার হয়েছে । বিষেশতঃ সোভিয়েত ইউনিয়নের ও পূর্ব ইউরোপের কমিউনিস্ট দেশ গুলির সমাজতন্ত্রের পতন নিয়ে তার অভিমত আমার জ্ঞান ভাণ্ডারে আমুল্য সম্পদ । তার ভাবনা আমাকে প্রচণ্ড প্রভাবিত করেছিল যা আমার জীবনের গতি পথ পরিবর্তন করে দিয়েছিল । আজও আমি তার স্নেহ কোন দিন ভুলতে পারব না । তিনি আমার অনেক আবদার মেনে বহু কমিউনিস্ট পার্টি সম্পর্কে অজানা তত্ত্ব ও তথ্য আমাকে দিয়ে আমার জ্ঞান কে সমবৃদ্ধ করেছিলেন ।


মুখোপাধ্যায়, সুভাষ (১৯১৯-২০০৩)  কবি, রাজনীতিবিদ। জন্ম পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর, ১৯১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। পিতা ক্ষিতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন আবগারি বিভাগের প্রসিকিউটর। মাতা যামিনী দেবী।
সুভাষ মুখোপাধ্যায় ভবানীপুর মিত্র স্কুল থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৭), স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে আইএ (১৯৩৯) পাস করেন। এ সময় তিনি কবি সমর সেনের সান্নিধ্যে মার্কসীয় রাজনীতি ও লেবার পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৪০ সালে তাঁর পদাতিক (১৯৪০) কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হলে তিনি শ্রমজীবী জনসাধারণের মুক্তিপ্রয়াসী কবি হিসেবে বাংলা কবিতাঙ্গনে পরিচিত হন। ১৯৪১ সালে বিএ পাস করে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং ১৯৪২ সালে পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ হলে তিনি আব্দুর রাজ্জাক, সতীশ পাকড়াশী, পারভেজ শহীদি, চারু মজুমদার, গিরিজা মুখার্জী, চিন্মোহন সেহানবীশ প্রমুখ ব্যক্তির সঙ্গে বন্দী হন। ১৯৫০ সালের নভেম্বর মাসে কারাগার থেকে মুক্তি পেলে একটি প্রকাশনা সংস্থায় তিনি সাবএডিটার হিসেবে নিযুক্ত হন। এ বছরই তাঁর চিরকুট (১৯৫০) কাব্য প্রকাশিত হলে তিনি মার্কসীয় বস্ত্তবাদী ধারার কবিরূপে খ্যাতি লাভ করেন। পরের বছর (১৯৫১) তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সুভাষ মুখোপাধ্যায় কেবল কবি নন, গদ্য লেখক হিসেবেও ছিলেন শক্তিমান। আমার বাংলা (১৯৫১), অক্ষরে অক্ষরে (১৯৫৪), কথার কথা (১৯৫৫) প্রভৃতি গদ্য রচনায় পাওয়া যায় তাঁর মনস্বিতার পরিচয়। সাহিত্য-সংস্কৃতির সাংগঠনিক নেতৃত্বেও তিনি পারদর্শিতার পরিচয় দেন। ১৯৫৮ সালে তিনি তাসখন্দে অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশীয় লেখক সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।
সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জীবনের প্রতিটি পর্বে লক্ষ করা যায় মানবীয় বোধের উদ্বোধন। তিনি তাঁর সাহিত্য-সাধনায় মানুষের অসীম সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করেন দৃঢ় প্রত্যয়ে। এজন্য বলা হয়েছে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সাহিত্য-সাধনা ছিল তাঁর জীবন-সাধনার অপর নাম। সমাজ, রাজনীতি, সাহিত্য, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সবকিছুর কেন্দ্রে তিনি মানুষকে স্থাপন করে জীবনের সদর্থক দিকের উন্মোচনা করেন। এ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর কবিতাকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করে তোলে। কবিতাকে তিনি শ্রমশীল, উৎপাদনক্ষম মানুষের উজ্জীবনের মন্ত্র হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে তিনি সাহিত্যিক রূপদানে আগ্রহী ছিলেন। ফলে শিল্পী হিসেবে তিনি ‘Arts for Arts Sake’-এ বিশ্বাস করতেন না। তাই তাঁর কবিতায় কবি ও কর্মীর মেলবন্ধন ঘটতে দেখা যায়। তিনি কবিতায় দুর্বোদ্ধতা সর্বদা পরিহার করার চেষ্টা করেন। কেননা তাঁর লক্ষ্য ছিল জনসাধারণের চেতনাকে জাগ্রত ও শাণিত করা। সে লক্ষ্যে তিনি সমাজের সর্বস্তরে তাঁর কণ্ঠস্বর পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। তাছাড়া সারল্য কবিতার একটি প্রধান গুণ হিসেবে তিনি বিবেচনা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, সমাজের কবিকে সুবোধ্য হতে হয়। ফলে সমাজমনস্কতা এবং রাজনীতি-চেতনার স্বার্থেই সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতায় সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের ছবি চিত্রিত হয়েছে।
সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ফুল ফুটুক (১৯৫৭), যত দূরেই যাই (১৯৬২), কাল মধুমাস (১৯৬৬), এই ভাই (১৯৭১), ছেলে গেছে বনে (১৯৭২) ও ধর্মের কল (১৯৯১) প্রধান। গদ্যগ্রন্থ:  ক্ষমা নেই (১৯৭২), খোলা হাতে খোলা মনে (১৯৮৭) প্রভৃতি। আত্মজীবনী: আমাদের সবার আপন ঢোলগোবিন্দের আত্মদর্শন (১৯৮৭), ঢোলগোবিন্দের মনে ছিল এই (১৯৯৪)। উপন্যাস : হাংরাস (১৯৭২), কে কোথায় যায় (১৯৭৬), কাঁচা-পাকা (১৯৮৯)। উল্লেখ্য যে, কমরেড, কথা কও (১৯৯০) গ্রন্থ প্রকাশের আগে (১৯৮১) কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ থেকে তিনি অব্যাহতি নেন। ২০০৩ সালের ৮ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।